রাম অতি সুবোধ বালক

ওরা হাত ছুঁড়ছিল ॥
কথা বলছিল চড়া গলায়।
কি সব দুর্বোধ্য শব্দ -প্রেম -স্বাভিমান –
দেশভক্তি – মর্যাদা —
মাঝেমধ্যে ধুপ ধাপ আওয়াজ- টুং টাং ঝন ঝনাত।
আবার কখনও বা একতা- সঙ্ঘবদ্ধ জীবন এসব কতকিছু।

ওই সময় রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল এক শিশু-
কৌতূহল নিয়ে
উঁকি মেরে
ধীরে ধীরে
ঘরে ঢুকলো ।
ঢুকে দেখে ধড়হীন বিদ্যাসাগর মাটিতে কাতরাচ্ছেন !

ছেলেটি চিত্কার করে বললে—
“ঐক্য”!
কেউ কোনো উত্তর করলেন না ।
আবার চিত্কার করে বললে
“বাক্য”।
তখনও সবাই চুপচাপ ।
স্লোগানে গলা মেলানোর কেউ নেই দেখে –
হঠাত্ বিদ্যাসাগরের ভাঙা মুণ্ডু অস্ফুটে বলল
“মানিক্য”!

মুহূর্তে ফুটপাথ -চারা গাছ -ল্যাম্পপোস্ট –
ধুলো- ট্রামলাইন- গরমের জলীয় বাস্প-
গুলমোহরের শুকনো পাপড়ি –
হরেক রঙের দিশা হীন নিশান –
ভারী বুট থেকে চপল চপ্পল –
কাঁকড়াঝোড় থেকে কাকদ্বীপ সব্বাই জানতে চাইলো –
সবাই চিত্কার করে জানতে চাইল
“কী হয়েছে তোমার করমাটাঁড়বাবু” ?

মুণ্ডুহীন হয়েও বললে
“রাম অতি সুবোধ বালক”!

–শুভময় দাস(অধ্যাপক)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *